রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি:
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলার ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাম খা গ্রামে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবিতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার (৮ জুন) বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত এ মানববন্ধনে ভুক্তভোগী নারীসহ স্থানীয় শতাধিক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১৭ সালে রাজারহাট সদর ইউনিয়নের নাটুয়া মহল গ্রামের হায়দার আলীর মেয়ে সামিনার সঙ্গে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয় ঘড়িয়ালডাঙ্গা ইউনিয়নের খিতাম খা গ্রামের সোলেমান মুন্সীর ছেলে রফিকুল ইসলামের। দাম্পত্য জীবনে তাদের একটি কন্যা সন্তান জন্মগ্রহণ করে।
অভিযোগ রয়েছে, বিয়ের কিছুদিন পর রফিকুল ইসলামের সঙ্গে পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হয় এবং ২০১৯ সালে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ ঘটে। পরবর্তীতে সামিনা ঢাকায় একটি তৈরি পোশাক কারখানায় চাকরি শুরু করেন। এদিকে রফিকুল ইসলাম কর্মসূত্রে বিদেশে যান।
ভুক্তভোগীর দাবি, বিদেশে অবস্থানকালে রফিকুল ইসলাম পুনরায় তার সঙ্গে যোগাযোগ করে সন্তানকে কেন্দ্র করে নতুন করে সংসার করার আশ্বাস দেন। ওই আশ্বাসে বিশ্বাস করে সামিনা চাকরি ছেড়ে রফিকুল ইসলামের বাড়িতে ফিরে আসেন। পরবর্তীতে স্বামীর অনুরোধে নিজের সঞ্চিত প্রায় ৪ লাখ টাকা ব্যয় করে তার বাড়িতে পাকা ঘর নির্মাণে সহায়তা করেন।
সামিনার অভিযোগ, বাড়ির নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর তিনি বাবার বাড়িতে গেলে ফিরে এসে দেখেন বাড়িতে তালা ঝুলছে এবং তাকে সেখানে উঠতে দেওয়া হচ্ছে না। বিষয়টি এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এ ঘটনার প্রতিবাদে রফিকুল ইসলামের বাড়ির সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে বক্তারা সামিনার সঙ্গে অন্যায় আচরণের প্রতিবাদ জানিয়ে তাকে ও তার কন্যা সন্তানকে সামাজিক ও পারিবারিক স্বীকৃতি দেওয়ার দাবি জানান।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা রোকাইয়া বেগম, আব্দুল লতিফ, নাসির শেখ, আতিয়ার রহমানসহ অনেকে বক্তব্য দেন। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং ন্যায়বিচারের দাবি জানান।
ভুক্তভোগী সামিনা বলেন, “বিবাহবিচ্ছেদের পর মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ঢাকায় চাকরি করে অর্থ সঞ্চয় করি। সাবেক স্বামীর আশ্বাসে সেই অর্থ তার বাড়ি নির্মাণে ব্যয় করেছি। কিন্তু এখন তিনি আমাকে অস্বীকার করছেন। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।”
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত রফিকুল ইসলামের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা বিষয়টির দ্রুত ও ন্যায়সঙ্গত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।


0 Comments